সেলফোন হারালে তৎক্ষণাৎ যা করতে হবে

১৮ অক্টোবর, ২০২৪ ০৬:৪৯  

সেলুলার ফোন। মোবাইল নেটওয়ার্কে সংযুক্ত এই কমিউনিকেশন হ্যান্ডসেটটি মোবাইলফোন নামে সমধিক পরিচিত। স্মার্ট হয়ে ওঠায় ফোনটি এখন আর নিছক যোগাযোগ রক্ষায় নয়; যাপিত জীবনের অনেক কাজেরই সঙ্গী। চলার পথে ফোনটি হারিয়ে গেলে কিংকর্তব্য বিমুখ হয়ে যান অনেকেই। তবে হতাশ বা ভেঙে না পড়ে তৎক্ষণাত যে কাজগুলো করতে হবে এবার তা জেনে নেয়া যাক।

সিম লক করুন : ফোন হারালে প্রথমেই সংশ্লিষ্ট অপারেটরের হটলাইনে ফোন করে সিমটি লক করতে হবে। তবে অনেকেই নিজের নামে নিবন্ধন করা সিম ব্যবহার করেন না। তখন ফোন করে সিম ব্লক করা দুস্কর হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে আগে থেকেই নিজের নামে সিম ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। সিম অন্যের নামে নিবন্ধিত হলে যার নামে নিবন্ধন করা, তার মাধ্যমে সিমটি ব্লক করতে হবে।

অ্যাপস লগআউট করুন : ফোনে যেহেতু এখন আর্থিক লেনদেন করতে বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ থাকে সেজন্য সিম লক করার পাশাপাশি দ্রুততম সময়ে ব্যাংকিং অ্যাপগুলো লগ-আউট করতে হবে। একইসঙ্গে অবিলম্বে আপনার অনলাইন ব্যাংকিং পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন। হারিয়ে যাওয়া ডিভাইসের কথা আপনার ব্যাংকে জানিয়ে রাখুন।আপনার অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত বা অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দিতে পারেন। হারানো ফোনের সঙ্গে যুক্ত যেকোনো ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড থাকলে সেটাও ব্লক করুন।

ফোন লক করুন : ফোনে যদি কোনো ট্র্যাকিং অ্যাপ, যেমন গুগলের ফাইন্ড মাই ডিভাইস (অ্যান্ড্রয়েডের জন্য) সক্রিয় করার সুযোগ থাকে, তাহলে দ্রুত তার মাধ্যমে মুঠোফোনটি দূর থেকে লক বা ডেটা মুছে ফেলার চেষ্টা করুন। ফাইন্ড মাই আইফোন (আইফোনের জন্য) ব্যবহার করে লক করুন। এজন্য যে কোনো কম্পিউটার থেকে এই ঠিকানাটা (https://www.google.com/android/find) লিখুন। আপনার অ্যানড্রয়েড মোবাইলে যে জিমেইল ব্যবহার করছেন সেই আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন। মনিটরে ফাইন্ড মাই ডিভাইস নামের একটি অপশন দেখাবে। সেটি একসেপ্ট করুন। অথবা আপনার আইডি দিয়ে গুগলে ঢুকে Find my phone লিখে সার্চ দিন। গুগল মনিটরে আপনার ফোনের লোকেশন দেখাবে। নিচে রিং অপশনে ক্লিক করলে আপনার ফোনে রিংটোন বেজে উঠবে। সাইলেন্ট মুডে থাকলেও সমস্যা নেই। রিং বাজবে। আপনার ফোনটি যদি হারিয়ে না গিয়ে আশপাশে কোথাও পড়ে থাকে, তাহলে রিং বাজেবে। রিং শুনতে না পেলে বুঝবেন সেটা খোয়া গেছে। ফলে কাল বিলম্ব না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড তথা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটকের পাসওয়ার্ড দ্রুত পরিবর্তন করুন। পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে ফেললে ফোনের নিয়ন্ত্রণ কেউ নিতে পারবে না। অমরা সচারচর মোবাইলফোনে ই–মেইল ব্যবহার করি। ই–মেইল অ্যাকাউন্ট অত্যন্ত সংবেদনশীল। অননুমোদিত নিয়ন্ত্রণ প্রতিরোধ করতে আপনার ই–মেইল পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন। অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করে রাখুন। একইসঙ্গে হারানোর পর অবিলম্বে অন্য ডিভাইস বা ল্যাপটপ থেকে আপনার যত অ্যাকাউন্ট আছে, তা লগ–ইন করে পাসওয়ার্ড দ্রুত পরিবর্তন করুন। হারানো ডিভাইস থেকে স্বয়ংক্রিয় লগ–আউট করুন।

থানায় জিডি করুন :  যেখান থেকে ফোনটি খোয়া গেছে, সেখানকার নিকটস্থ কোনো থানায় গিয়ে জিডি করে আপনার ফোন হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করুন। এতে ভবিষ্যতে যেকোনো আইনি ঝামেলায় পড়লে সুরক্ষিত থাকবেন। যেমন- চুরি বা ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোনটি কখনো কখনো অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে মোবাইল ও সিমের রেজিস্ট্রি অনুযায়ী এর প্রকৃত মালিক হলেও পরবর্তীতে এটি ব্যবহারে অপরাধ সংঘটিত হলে তার দায় থেকে মুক্তি মিলবে। এছাড়াও হারিয়ে যাওয়া ফোন উদ্ধারে জিডির তথ্য গুরুত্বপূর্ণ উপায়ে আপনাকে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি সিম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ হচ্ছে কি না, সেদিকে খেয়াল রাখুন। বিভিন্ন আর্থিক অ্যাকাউন্টেও খেয়াল রাখুন। আপনার ব্যাংক স্টেটমেন্ট সংরক্ষণ করু। ই–মেইলে নজর রাখুন। অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ করলে দ্রুত মুঠোফোন অপারেটর, ব্যাংক, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিন। বস্তুত, সাধারণ ডায়েরি করার সময় ফোন ক্রয়ের রসিদ, সিম রেজিস্ট্রেশন ডকুমেন্ট ইত্যাদির কপি দিতে হবে। আর জিডিতে অবশ্যই আইএমইআই নম্বরগুলি লিখতে হবে। এরপর জিডির মূল কপি নিজের কাছে যত্নসহকারে রেখে দেবেন। এরপর ডিউটিরত অফিসার আবেদনকারীকে একটি জিডি নম্বর দেবেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোবাইলটির আইএমইআই নম্বর দিয়ে ট্র্যাক করে সেটটি উদ্ধার করার চেষ্টা করবে। পরবর্তী সময়ে যদি হারানো মোবাইল ফোনটি খুঁজে পাওয়া যায় তাহলে ওসির মাধ্যমে আবেদনকারী তা ফেরত পাবেন। খুঁজে না পেলেও ব্যবহারকারীকে থানা থেকে জানিয়ে দেয়া হবে। পুলিশের এই সেবা বিনামূল্যে দেয়া হয়ে থাকে।

ডেটার সুরক্ষা নিশ্চিত করুন : এবার হারিয়ে যাওয়া ফোন লক করে তথ্য সুরক্ষার চেষ্টা করুন। ডিভাইসে থাকা তথ্য মুছে ফেলার চেষ্টা করুন। ক্লাউডের মাধ্যমে বিভিন্ন নোট বা ডেটা ব্যাকআপ করে ফেলুন। স্মার্টফোনেই সাধারণত আমরা অনেক ছবি ও ভিডিও সংরক্ষণ করি। এসব ছবি ও ভিডিও দ্রুত কপি করে অন্য ডিভাইসে রাখুন। এ ছাড়া মুঠোফোনে অনেক তথ্য লিখতে আমরা গুগল ক্লিপ বা এভারনোট ব্যবহার করি। মোবাইল হারালে ক্লাউডভিত্তিক এমন সেবার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ডেটা বা নোট সংরক্ষণ করে ফেলুন। আপনার নোটের ব্যাকআপ নিশ্চিত করুন এবং সম্ভব হলে পুরোনো মুঠোফোন থেকে তা মুছে দিন।